চুল মানুষের সৌন্দযের অন্যতম গুরুত্বপূন অংশ ।সুন্দর,ঘন এবং স্বাস্হ্যকর চুল শুধু ব্যাক্তিত্বকে আকষনীয় করে তোলে না,বরং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় ।বতমান সময় পরিবেশ দূষণ অনিয়োমিত জীবনযাপন ,অপুষ্টিকর খাদ্যাঅভ্যাস মানুষিকচাপ,রাসায়নকযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্টের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে চুলের নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে । অনেকেই চুলপড়া আগা ফেটে যাওয়া ,খুশকি,রুক্ষতা কিংবা চুলের স্বাভাবিক উজ্জলতা হারনোর সমস্যায় ভুগছেন ।তবে সুখবর হলো ,সঠিক পরিচযা ওস্বস্হ্যকর জিবনাপনের মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্তন কর সম্ভব ।এই আরটিকেলে চুলের যত্ন নেওয়ার কাযকর উপায় ,চুলের জন্য উপকারী খাদ্য,প্রাকৃতিক পরিচযা ,সাধারন ভুল এবং বিশেজ্ঞদের পরামশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ।
চুলের গঠন সম্পকে সংক্ষিপ্ত ধারণা
চুল মূলত কেরাটিন নামক প্রটিন দিয়ে তৈরি । প্রতিটি চুল একটি ফলিকল থেকে জন্মায় ,যা মাথার ত্বকের নিচে অবস্হিত ।
চুলের তিনটি প্রাধান অংশ রয়েছে;
কিউটিকল
এটি চুলের বাইরের এস্তর ।কিউটিকল সুস্হ থাকলে চুলের উজ্জল ও মসৃণ দেখায় ।
কটেক
চুলের সবচেয়ে বড় অংশ ।এটি চুলের রং শক্তি নিধারণ করে ।
মেডুলা
এটি চুলের ভিতরের অংশ যা সব চুলে থাকে না। চুলের এই সঠিক গঠন সম্পকে জানা থাকলে সঠিক যত্ন নেওয়া সহজ হয় ।
কেন চুলের যত্ন নেওয়া জরুরী ।
চুলের যত্ন নেওয়া অবোহেলা করলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে ।
চুলের যত্ন না নিলে যেসব সমস্যা হতে পারে;
অতিরিক্ত চুল পড়া
খুশকি
চুল ভেঙে যাওয়া
আগা ফেটে যাওয়া
চুল পাতলা হওয়া
মাথার ত্বকে সংকমন
চুলের বৃদ্ধিকমে যাওয়া
নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকটাই সমাধান করা সম্ভব ।
চুলের ধরনঅনুজায়ি যত্ন,সব চুলের জন্য একই ধরনের পরিচযা কাযকর হয় না ।তাই প্রথমে আপনার চুলের ধরন নিধারণ করুন ।
শুষ্ক চুল
শুষ্ক চুল সাধারণত রুক্ষ হয় এবং দ্রুত ভেঙে পরে । যত্নের উপায়,
নিয়মিত তেল ব্যবহার করুন ।
সালফেট মুক্ত সেম্পু ব্যবহার করুন ।
সপ্তাহে একবার হলেও হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন ।
অতিরিক্ত হিট স্টাইল ব্যবহার বন্ধ করুন ।
তৈলাক্ত চুল
মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল সম্পন হলে চুল দ্রুত আঠালো হয়ে যায় ।যত্নের উপায়,
সপতাহ ৩-৪ বার শ্যামপু করুন
ভারী তেল ব্যাবহার কমান
হালকা কনডীশনার ব্যবহার করুন
সাভাবীক চুল
এ ধরনের চুলে তেল ও আদ্রতার ভারসম্য থাকে ।
যত্নের উপায়
নিয়মিত পরিষ্কার করুন
পুষ্টিকর খাদ্যা গ্রহন করুন
মাসে একবার ডিপ কন্ডিশনার করুন
কোঁকড়ানো চুল
কোঁকড়ানো চুল দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায় ।
যত্নের উপায়
লিভ ইন কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
বেশি করে ময়েশ্চারাইজার করুন
ভেজা অবস্তায় চওড়া চিরুনি ব্যবহার করুন
দৈনদিন চুলের যন্তের সঠিক রুঠিন
১.সঠিক ভাবে চুল আচড়ান অনেকেই ভেজা চুল জোড়ে আচরান এটা চুল ভাঙার অন্যতম কারন হতে পারে ।
করণীয়,
ভেজা চুলে চওড়া চিরুনি ব্যাবহার করুন ।
নিচ থেকে ধীরে ধীরে আচড়ান ।
অপ্রয়োজনীয় ভাবে বারবার চুল আচড়াবেন না ।
২.সঠিক শ্যাম্পু নিবাচন করা
সব শ্যাম্পু সবার জন্য উপযুক্তনা ।
শ্যাম্পু বাছায়ের সময়;
.শুষ্ক চুলের জন্য ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু
.তৈলাক্ত চুলের জন্য ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু
খুশকির জন্য মেডিকেটেড শ্যাম্পু
৩.কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
কন্ডিশনার চুলের আদ্রতা ধরে রাখতে সাহয্য করে
ব্যাবহারের নিয়ম
শুধুমাত চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে আগা পযন্ত ব্যবহার করুন ।
মাথার ত্বকে সরাসরি ব্যবহার করবেন না ।
৪ অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না গরম পানি চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয় । সব সময় কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাএার পানী ব্যবহার করা ভালো ।
চুলের জন্য উপকরী পুষ্টিখাবার খাবার চুলের সৌন্দয ভিতর থেকে আসে ।তাই খাদ্যাভ্যস অত্যন্ত গুরুত্বপূণ ।
প্রোটিন
চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন একটি প্রোটিন ।
প্রোটিনের উৎস;
ডিম
মাছ
মুরগির মাংস
ডাল
সয়াবিন
আয়রন
আয়রনের ঘাটতিতে চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়ে ।
আয়রনের উৎস
পালং শাক
কলিজা
মসুর ডাল
বিটরুট
ভিটামিন সি
ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে ।
উৎস;
কমলা
লেবু
আমলকি
পেয়ারা
ওমেগা ৩
চুলকে উজজল ওস্বাস্হ্যকর রাখতে সাহায্য করে ।
উৎস;
সামুদ্রিক মাছ
আখরোট
চিয়া সিড
পযাপ্ত পানি পান করুন
পানিশূন্যতা চুলকে শুষ্ক এবং প্রাণহন করে তোলে ।
প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষকে প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত ।
চুলের যত্ন নারিকেল তেলের ভুমিকা
বাংলাদেশে চুলের যত্নে সবচেয়ে বড় উপাদন হলো নারিকেল তেল ।
উপকারিতা:
চুলের গভীরে পুষ্টি পৌছে দেয় ।
চুল ভাঙা কমায়
আদ্রতা ধরে রাখে
মাথার ত্বক সুস্হ রাখে
ব্যবহারেরে নিয়ম:
১.হালকা গরম করুন ।
২.মাথার ত্বকে ম্যাসেজ করুন
৩.১-২ ঘন্টা রেখে দিন
৪.পরে মৃদু শেম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ।
চুল পরা বন্ধ করার কযকর উপায় বতমানে নারী পুরুষ অনেক মানুষেই এখন চুল পড়ার সমস্যা ভূকছে ।
প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি পড়া স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশি পড়লে অবশই চুলের যত্নের প্রতি সচেতন হওয়া প্রয়োজন ।
চুল পড়ার প্রধান কারন:
মানুসিক চাপ অতিরিক্ত মানুসিক চাপ চুলপড়ার অন্যতম কারন ।
অপুষ্টি
প্রোটন,আয়রন,জিংক ও ভিটামিনের ঘাটতি চুল দুবল করে দেয় ।
হরমোনজনিত পরিবতন,বিশেষ করে গভাবস্হা ,থাইরয়েড সমস্যা বা মেনোপেজর সময় চুল পরা বেরে যেতে পারে ।
বংশগত করণ
পরিবারের টাক পড়ার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে ।
চুল পড়া কমানর উপায়;
পযাপ্ত ঘুম
প্রতিদিন৭-৮ ঘন্টা ঘুমানো চুলের ওশরীরের জন্য অনেক উপকারী ।
নয়মিত ব্যায়াম
ব্যায়াম রক্ত সন্চালন বাড়ায় ফলে চুলের ফলিকলে পযাপ্ত পুষ্টি পৌছায় ।
স্বাস্হকর খাদ্যাভ্যাস
সুষম খাদ্যা গ্রহন করলে চুলের সাভাবিক বৃদ্ধি বজায় থাকে ।
স্ক্যাল্প ম্যাসেজ
নিয়মিত মাথার ত্বক ম্যাসাজ করলে রক্ত সন্চালন বৃদ্ধ পায় ।
খুশকি দুর করার উপায়
খুশকি শুধ সৌন্দয নষ্ট করেনা বরং চুলপড়া বৃদ্ধি করে ।
খুশকি করনীয়:
মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া
ছএাকজনিত করণ
অপিষ্কার স্ক্যাল্প
অতিরিক্ত তেল ব্যবহার
কিছু বিশেষ ত্বকের সমস্যা
ঘরোয়া সমাধান:
লেবুর রস
লেবুর কিছু প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান খুশকি কমাতে সাহায্য করে ।
অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা মাথার ত্বকের জ্বালা ও চুলকানি কমায় ।
টি ট্রি অয়েল
টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিম এোবিয়াল উপাদান রয়েছে যা খুশকি নিয়ন্তন করে ।
আপেল সিডার ভিনেগার
মাথার ত্বকের -ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহয্য করে ।
অ্যালোভেরা দিয়ে চুলের যত্ন নিন।
অ্যালোভেরা প্রাকৃতিকভাবে চুলের অত্যন্ত উপকারী ।
খুশকি কমায়
মাথার ত্বক আদ্রতা ধরে রাখে
চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে সাহয্য করে
চুলকে নরম ওউজ্জল করে
ব্যবহার পদ্ধতি:
১.তাজা অ্যালোভেরা জেল সংগ্রহ করন
২.সরাসরি স্ক্যাল্পে লাগান
৩.৩০মিনিট অপেক্ষা করুন
৪.হালকা শ্যম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
মেথি দিয়ে চুলের যত্ন
মেথি চুলের জন্য একটি উপকারি প্রাকৃতিক উপাদান ।
উপকারিতা:
চুল পড়া কমায়
নতুন চুল গজাতে সাহয্য করে
খুশকি কমায়
চুল মজবুত করে
মেথির হেয়ার মাস্ক
উপকরন:
২ টেবিল চামচ মেথি
পরিমানমত পানি
প্রস্তুত প্রনালী:
১.সারারাত ভিজিয়ে রাখুন
২,সকালে পেষ্ট তৈরি করুন
৩.৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন
৪.পরে ধুয়ে ফেলুন
আমলকি দিয়ে চুলের যত্ন
আমলকি দীঘদিনধরে ব্যবহার হয়ে আসচে ।
উপকারিতা,
চুলের গোড়া শক্ত করে
অকালপক্কতা কমায়
চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়
চুলের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে
ব্যবহার,
আমলকি গুঁড়া
আমলকির তেল
আমলকির রস
সব ধরনের ব্যবহার উপকারী ।
ডিমের হেয়ার মাস্ক
উপকারিতা
চুল শক্তিশালি করে
ভাঙন কমায়
চুল উজ্জলতা বাড়ায়
মাস্ক তৈরির নিয়ম
উপকরন
১টি ডিম
১চামচ অলিভঅয়েল
ব্যবহার মিশ্রন ২০ মিনিট চুলে লাগিয়ে তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ।
ঋতুভেদ চুলের যত্ন
গ্রীষ্মকালে গরমে মাথার ত্বক বেশি ঘামে
নিয়মিত শ্যাম্পু করুন
রোদে বের হলে মাথা ঢেকে রাখুন
বেশি পানী পান করুন
বষাকালে আদ্র আবহাওয়ায় ছএাকের ঝুকি বারে ।
করণীয়
ভেজা চুল দূত শুকিয়ে নিন
পরিষ্কার তোয়ালি ব্যবহার করুন
শীতকালে
শীতকালে চুল শুষ্ক হয়ে যায় করনিয়
নিয়মিত তেল ব্যবহার করুন
ডিপ কন্ডিশনার করুন
গরম পানি এড়িয়ে চলুন
চুল দ্রুত বড় করার উপায়:
চুল বড় করার যাদুকর কোনো উপায় নেই তবে সঠিক যতনের মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধি কর যায় ।
স্ক্যাল্প ম্যাসাজ
প্রতিদিন ৫-১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন
পুষ্টিকর খাদ্য,প্রোটিন,আয়রন এবং ওমেগা৩সমৃদ্ধ খাবার খান
নিয়মিত ট্রিমিং
৬-৮ সপ্তাহ পরপর আগা ট্রিম করুন।
পযাপ্ত ঘুম
ঘুমের সময় শরীরের কোষ পূণ গঠন করে ।
চুলের জন্য ক্ষতিকর অভ্যাস
অনেক সময় আমরা অজান্তে অনেক কিচু কাজ করি যা চুলের ক্ষতি করে ।
অতিরিক্ত হায়ার ড্রায়ার ব্যবহারে
ঘন ঘন চুল রং করা
রাসায়ানিক উপাদান চুলের ক্ষতি সাধন করতে পারে ।
ভেজা চুল বেধে রাখা
এতে ছএাক ওচুল ভাঙার ঝুকি বারে ।
টাইট হেয়ার এস্টাইল
চুলের গোড়ায় অতিরিকত চাপ না দেয়া।
কম পানি পান করা
পানি শূন্যতা চুলকে রুক্ষ করে তোলে
চুলের যত্ন করনিও ওবজনীয়
করণীয়
সুষম খাদ্যা গ্রহন
পযাপ্ত পানি পান করুন
নিয়মিত স্ক্যাল্প পরষ্কার করুন
ভালো মানের শ্যাম্পু ব্যবহার করুন
পযাপ্ত ঘুমান
বজনীয়
অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার
ভেজা চুলে ঘুমানো
বারবার হিট স্টাইলিং
কখন চিকিৎসকের পরামশ প্রয়জোন
নিচের সমস্যা গুলোদেখি চমরোগ বিশেষজ্ঞের পরামশ নেওয়া জরুরি
হঠাত অতিরিক্ত চুলপড়া
মাথায় টাকের মতো অংশ দেখা দেওয়া
তীব্র চুলকানি
মাথার ত্বকের ক্ষতি
দীঘমেয়াদি খুশকি
উপসংহার
সুন্দর চুলের জন্য শুধু বিহিক যত্ন যথেষ্ট নয় ।সঠিক খাদ্যাভাস,ঘুমানো,নিয়মিত ব্যায়াম ,মানুষিক চাপ নিয়ন্তক কর জরুরী ।চুলের ধরন অনুযায়ি যত্ন নেয়া উচিত।